তারেক রহমানের দিল্লি সফরের অপেক্ষায় আছি: ভারতীয় হাইকমিশনার
- আপডেট সময় : ০৬:৩৫:৪৪ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন বলে জানিয়েছেন ঢাকায় নবনিযুক্ত দেশটির হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। তারেক রহমান ভারত সফর করলে দুই দেশের মধ্যে বেশকিছু বিষয়ে আলোচনায় অগ্রগতি হবে বলেও জানান তিনি।
একই আকাশ একই বাতাস, মিলেমিশে ভিসার সমাধান করব: ভারতীয় হাইকমিশনার
ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে ভারতের আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দিল্লি যাবেন কি না— এমন প্রশ্নের উত্তরে ভারতের হাইকমিশনার বলেন, ‘এ সিদ্ধান্ত নেবেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী। এটি সম্পূর্ণ তার বিষয়। তবে আমরা অধীর আগ্রহে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরের অপেক্ষায় আছি। আমি আশাবাদী, অদূর ভবিষ্যতেই এই সফর হবে এবং আমরা সবাই সেই সফরের অপেক্ষায় আছি।’
বুধবার (২৯ জুলাই) বিকেলে ঢাকায় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান ও প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলামের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন। ঢাকায় ভারতের হাইকমিশনারের দায়িত্ব নিয়ে আসার পর দীনেশ ত্রিবেদী এই প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করলেন।
ঢাকায় ভারতীয় হাইকমিশনার হিসেবে নিয়োগের পর বুধবার প্রথম পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
খুবই উষ্ণ পরিবেশে বৈঠক হয়েছে উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নানা বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সংস্কৃতি থেকে সংগীত, এমনকি ক্রিকেট— সব বিষয় নিয়েই আলোচনা হয়েছে। এটি কেবল শুরু। ভবিষ্যতে আমরা আরও বেশি সম্পৃক্ত হব বলে আশা করছি।
তিস্তা চুক্তি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, এটি একটি সৌজন্য সাক্ষাৎ ছিল। সৌজন্য সাক্ষাতে সৌজন্যমূলক আলোচনা হয়। তবে পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না, এমন কোনো সমস্যা নেই। শেষ পর্যন্ত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো মানুষ এবং দুই দেশের জনগণের কল্যাণ।
পররাষ্ট্রমন্ত্রীর পরে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদের সঙ্গেও সাক্ষাৎ করেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়
গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি নিয়ে জানতে চাইলে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, এ বিষয়ে দুই দেশেরই একটি করে ওয়ার্কিং গ্রুপ রয়েছে। তারা সক্রিয়ভাবে কাজ করবে এবং পারস্পরিক যোগাযোগ অব্যাহত রাখবে। আমি আগেও বলেছি, পারস্পরিক বোঝাপড়ার মাধ্যমে সমাধান করা যায় না— এমন কোনো সমস্যা নেই।
এ প্রসঙ্গে দীনেশ ত্রিবেদী আরও বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর হলে বিষয়গুলো আরও এগোবে বলে আমি আশা করি। ওয়ার্কিং গ্রুপ তাদের কাজ করবে এবং যা দুই দেশের জনগণের জন্য উপকারী, সেটিই বাস্তবায়িত হবে। আমি সবকিছু ইতিবাচকভাবে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা করছি।
রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে মন্ত্রীর মর্যাদা পাবেন ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী
বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা ফের চালু হওয়ার প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারতীয় হাইকমিশনার বলেন, ‘ভারত ও বাংলাদেশ উভয় দেশের জনগণের জন্য এটি খুবই সুবিধাজনক। দুই দেশের সম্পর্ক ঐতিহাসিক। আমাদের শুধু সীমান্ত নয়, অভিন্ন সংস্কৃতি ও স্বপ্নও রয়েছে। তাই বৈঠক খুবই ভালো হয়েছে। উভয়পক্ষের জনগণের জন্য লাভজনক হয়— এমন সম্পর্কের ভিত্তি গড়ে তোলার অপেক্ষায় রয়েছি আমি।’
এর আগে আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর নয়াদিল্লিতে অনুষ্ঠেয় ১৮তম ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের আউটরিচ পর্বে যোগ দেওয়ার জন্য বিমসটেকের বর্তমান চেয়ারম্যান হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে আমন্ত্রণ জানান ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। এরপর থেকেই তারেক রহমানের দিল্লি সফর নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে। তবে ওই আমন্ত্রণ গ্রহণ করে তারেক রহমান সম্মেলনে যোগ দেবেন কি না, সে বিষয়ে এখনো সিদ্ধান্ত জানানো হয়নি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় বা পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে।










