বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৫:০৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

১৫ আগস্টের দায় কেন বিএনপির?

রিপোর্টার / ২৮০ বার
আপডেট : শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০২১

প্রভাষ আমিন

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট সপরিবারে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার হয়েছে। আত্মস্বীকৃত ও প্রকাশ্য খুনিদের ফাঁসি হয়েছে, কয়েকজন এখনও পালিয়ে আছে। দৃশ্যমান খুনিদের ফাঁসি হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার ষড়যন্ত্রে জড়িত দেশি-বিদেশি চক্রের অনেকেই এখনও আড়ালে রয়ে গেছে। আগস্ট এলেই আওয়ামী লীগ নেতারা কমিশন গঠন করে সব ষড়যন্ত্রকারীর মুখোশ উন্মোচনের অঙ্গীকার করেন বা দাবি তোলেন। কিন্তু আওয়ামী লীগ টানা ১২ বছর ক্ষমতায়। তারা কার কাছে কমিশন গঠনের দাবি তোলেন জানি না। এটা ঠিক বঙ্গবন্ধু যখন যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ পুনর্গঠনের লড়াই করছেন, তখন সহিংস উপায়ে দেশে রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করে বঙ্গবন্ধু হত্যার প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল জাসদ। আর দেশি-বিদেশি চক্রান্তে বাস্তবায়ন করেছিল সেনাবাহিনীর কিছু বিপথগামী সদস্য। এটা ঠিক, এই ষড়যন্ত্রে বাইরের লোক যেমন ছিল, আওয়ামী লীগের ভেতরের লোকও কম ছিল না। বঙ্গবন্ধুর মরদেহ ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের সিঁড়িতে ফেলে রেখে আওয়ামী লীগ নেতাদের অনেকে বঙ্গভবনে ছুটে গিয়েছিলেন ক্ষমতার লোভে। বঙ্গবন্ধু হত্যার পর রাষ্ট্রপতির আসনটি কলঙ্কিত করেছিল তাঁরই দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহকর্মী বিশ্বাসঘাতক খন্দকার মোশতাক এবং মোশতাক মন্ত্রিসভার সদস্যদের অধিকাংশই বঙ্গবন্ধু মন্ত্রিসভারও সদস্য ছিল বা আওয়ামী লীগের নেতা ছিল। তখন এমন একটি বাতাবরণ তৈরির চেষ্টা হয়েছে, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করা হলেও আওয়ামী লীগই ক্ষমতায় রয়েছে। কিন্তু খুনিদের সে ষড়যন্ত্র সফল হয়নি।

পিতা, মাতা, ভাই, ভাবিসহ পরিবারের সবাইকে হারানোর বেদনা বয়ে বেড়াচ্ছেন শেখ হাসিনা। এ এক অনন্ত বেদনা। সেই বেদনার সঙ্গে যুক্ত হয় দলের নেতাদের বিশ্বাসঘাতকতা, পালিয়ে যাওয়া; বিভিন্ন বাহিনীর নিষ্ক্রিয়তা শেখ হাসিনাকে ক্ষুব্ধ করে। তিনি বিভিন্ন সময়ে দল এবং সংশ্লিষ্টদের বিশ্বাসঘাতকতা এবং নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। যেমনটি করেছেন গত বৃহস্পতিবার জাতীয় শোক দিবসের এক আলোচনায়।

আওয়ামী লীগের বিশ্বাসঘাতকতার ইতিহাস অনেক পুরনো। অনেকবার দল ভেঙেছে। দলের নেতারা ৭৫ সালে তো বিশ্বাসঘাতকতা করেছেনই, ১/১১’র সময়ও শেখ হাসিনাকে মাইনাস করতে দলের অনেকে সচেষ্ট ছিলেন। ১/১১-এর সময় কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে শেখ হাসিনা বলেছিলেন, ফরগিভ বাট নট ফরগেট।

ক্ষমা করেছি কিন্তু ভুলবো না। ১/১১-এর বিশ্বাসঘাতকদের প্রায় সবাই এখনও আওয়ামী লীগেই আছেন। এমনকি ৭৫-এর বিশ্বাসঘাতক বা ভীতুরাও পরে শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ করেছেন। মোশতাক মন্ত্রিসভার সদস্য আব্দুল মান্নান, আব্দুল মোমেন ও দেওয়ান ফরিদ গাজী পরে আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছিলেন। ১৫ আগস্ট ৩২ নম্বর হামলা শুরুর পর বঙ্গবন্ধু ফোন করেছিলেন তখনকার সেনাপ্রধান শফিউল্লাহকে। তিনি আক্রমণ ঠেকাতে সেনাবাহিনী মুভ না করিয়ে বঙ্গবন্ধুকে পালানোর পরামর্শ দিয়েছিলেন। পরেও সেনাপ্রধান হিসেবে কোনও পাল্টা ব্যবস্থা নেননি। বরং অল্প কয়েকজন বিপথগামী সেনা সদস্যের কাছেই সারেন্ডার করে পুরো তিন বাহিনী। বাহিনী প্রধানরা বেতার ভবনে গিয়ে তাদের আনুগত্য প্রকাশ করেন। সেই ‘ভীরু, কাপুরুষ’ শফিউল্লাহও পরে আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছিলেন। বঙ্গবন্ধু হত্যা প্রেক্ষাপট তৈরি করেছিল যে জাসদ, তাদের অনেকেই পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। এমনকি জাসদে থেকেই শেখ হাসিনা সরকারের মন্ত্রী হয়েছিলেন আ স ম আব্দুর রব, হাসানুল হক ইনু।

বিশ্বাসঘাতকদের অনেককে ক্ষমা করলেও আওয়ামী লীগের সব ক্ষোভ এখন বিএনপি এবং জিয়াউর রহমানের ওপর। শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগের নেতারা বিভিন্ন সময়ে বলেছেন, জিয়াউর রহমান বঙ্গবন্ধু হত্যা ষড়যন্ত্রের সঙ্গে জড়িত। তারা জিয়াউর রহমানের একাত্তরের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। আমার ধারণা, তীব্র বিরাগ থেকেই তারা এটি করেন। ঘটনাচক্রে জিয়াউর রহমান ২৭ মার্চ চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বঙ্গবন্ধুর পক্ষে স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন, মুক্তিযুদ্ধে তিনি সেক্টর কমান্ডার ছিলেন, ‘জেড’ ফোর্সের অধিনায়ক ছিলেন। একাত্তরের পর বঙ্গবন্ধু সরকার জিয়াউর রহমানকে ‘বীর উত্তম’ খেতাবে ভূষিত করেছিল, যা জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে সর্বোচ্চ। জিয়াউর রহমানকে অ্যাকোমোডেট করার জন্য বঙ্গবন্ধু সেনাবাহিনীতে উপ-প্রধান পদ সৃষ্টি করেছিলেন। শুধু তা-ই নয়, যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার সংসার টিকিয়ে রাখার কৃতিত্বও বঙ্গবন্ধুর।

এতকিছুর পরও বঙ্গবন্ধু জিয়াউর রহমানের কাছ থেকে কোনও প্রতিদান পাননি। জিয়া বরং কৃতঘ্নতা দেখিয়েছেন। সে আলোচনায় পরে আসছি। তবে আওয়ামী লীগাররা যেভাবে জিয়াউর রহমানকে বঙ্গবন্ধুর হত্যার ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেন, তথ্য তা পুরোপুরি সমর্থন করে না, বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলার তদন্তেও তেমন কিছু আসেনি। আগেই মারা যাওয়ায় বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায়ও জিয়াউর রহমানকে আসামি করার সুযোগ ছিল না। হয়তো এখনও অনেক তথ্য আমরা জানি না। কমিশন গঠন করলে হয়তো আরও অনেক তথ্য জানা যাবে। তবে এখন পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সরাসরি ষড়যন্ত্রে জড়িত না হলেও বিষয়টি তিনি জানতেন। বঙ্গবন্ধুর  আত্মস্বীকৃত খুনি কর্নেল ফারুক অ্যান্থনি মাসকারানহাসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছিল, ‘আমরা জেনারেল জিয়াকে উপযুক্ত ব্যক্তি বলে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করি। ১৯৭৫ সালের ২০ মার্চ সন্ধ্যাবেলা তার সাথে সাক্ষাতের ব্যবস্থা করি।’ জিয়ার সাথে কী কথা হয়েছিল এ প্রশ্নের জবাবে ফারুক বলেন, ‘সরাসরি না বলে জিয়াকে আমি কথাটা ঘুরিয়ে বলি। আমি বললাম, দুর্নীতিতে দেশ ভরে গেছে, দেশের জন্য একটি পরিবর্তন দরকার।’ এটুকু বলতেই জিয়া বলেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ চলো আমরা বাইরে লনে গিয়ে বসে আলাপ করি। সেখানে আমি তাকে জানাই যে, আমরা জুনিয়র অফিসাররা পরিবর্তন আনার সম্পর্কে পরিকল্পনা তৈরি করেছি। সব শুনে জেনারেল জিয়া বলেছিলেন, আমি একজন সিনিয়র অফিসার; আমি এ ধরনের ব্যাপারে জড়িত হতে পারি না। তোমরা জুনিয়র অফিসাররা যদি এটা করতে চাও, তাহলে এগিয়ে যাও।’ একজন দায়িত্বশীল উপ-সেনাপ্রধান হলে জিয়াউর রহমান তখনই ফারুককে গ্রেফতার করতেন, ষড়যন্ত্রের কথা বঙ্গবন্ধুকে জানাতেন। কিন্তু তিনি সেটা না করে ফারুক গং যাতে তার সাথে আর দেখা করতে না পারে, তা নিশ্চিত করলেন। চতুর জিয়া একই সঙ্গে ফারুককে ‘এগিয়ে যাও’ বলে গ্রিন সিগন্যাল দিলেন, আবার তাদের কাছ থেকে দূরত্বও বজায় রাখলেন। তিনি আসলে বরাবরের মতো সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন। আগেই বলেছি, মোশতাক মন্ত্রিসভার সদস্যদের অনেকে পরে আওয়ামী লীগের এমপি হয়েছেন। তাদের অনেকের তুলনায় জিয়াউর রহমানের দায় হয়তো কম। অন্তত সেনাপ্রধানের চেয়ে উপ-সেনাপ্রধানের দায় কিছুটা হলেও কম। ১৫ আগস্টের দায় এড়ানোর অনেক সুযোগ জিয়াউর রহমানের ছিল। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের বিচার করা যাবে না, এমন বিধান রেখে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করেছিল খন্দকার মোশতাক সরকার। খুনিরা যখন ব্যাংককে পালায় তখন জিয়া গৃহবন্দি, ক্ষমতায় খালেদ মোশাররফ। জিয়া ক্ষমতার কেন্দ্রে আসেন ৭৫’র ৭ নভেম্বর। এর আগ পর্যন্ত ২০ মার্চ ফারুকের সঙ্গে সাক্ষাতের অংশটি বাদ দিলে জিয়াউর রহমান দায় এড়াতে পারতেন। কিন্তু ১৫ আগস্টের আগের চেয়ে পরের ভূমিকা তাকে আরও বিতর্কিত করে। বঙ্গবন্ধু জিয়াউর রহমানের জন্য যা করেছেন, তাতে ন্যূনতম কৃতজ্ঞতা থাকলে তিনি ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে খুনিদের বিচার শুরু করতে পারতেন। সেনাপ্রধান ও পেশাদার সৈনিক হিসেবে সেনাবাহিনীর চেইন অব কমান্ড ভঙ্গকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারতেন। কিন্তু তিনি করেছেন উল্টোটা। বঙ্গবন্ধুর খুনিদের পুরস্কৃত করেছেন, পুনর্বাসিত করেছেন। ৭৯ সালের সংসদে ইনডেমনিটি অধ্যাদেশকে আইনে পরিণত করেছেন।

বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুকে নিষিদ্ধ করেছেন। এ কাজগুলো করতে তাকে কেউ বাধ্য করেনি। তিনিই তখন বাংলাদেশের সর্বেসর্বা। তিনিই বরং আগ বাড়িয়ে ১৫ আগস্টের দায় নিজের কাঁধে নিয়ে খুনিদের রক্ষা করেছেন।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট বিএনপির জন্মই হয়নি। তাই ১৫ আগস্টের দায় বিএনপিকে দেওয়ার কোনও সুযোগ নেই। জিয়াউর রহমান ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর ক্যান্টনমেন্টে বসে বিএনপি গঠন করেন। জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর তার স্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে ক্যান্টনমেন্টে গড়ে ওটা বিএনপিকে গণতান্ত্রিক রূপ দেন। কিন্তু ১৯৯১ সালে ক্ষমতায় আসার পর গণতান্ত্রিক বিএনপি সরকারও বহাল রাখে কালো আইন ইনডেমনিটি। বরং খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর হঠাৎ আবিষ্কার হয়, তার জন্মদিন ১৫ আগস্ট, সেটা আবার ঘটা করে পালনও করা হতো। ১৫ আগস্ট জাতির পিতার মৃত্যুর দিনে ঘটা করে বিতর্কিত জন্মদিন পালন করা অতি নিম্নরুচির রাজনৈতিক প্রতিহিংসা।

তাই ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জন্ম না হলেও বিএনপি বারবার আগ বাড়িয়ে ১৫ আগস্টের রাজনৈতিক দায় কাঁধে নিয়েছে। ২১ বছর পর ১৯৯৬ সালে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ বাতিল করে বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। তাঁর সময়েই বিচার কাজ হাইকোর্ট পর্যন্ত শেষ হয়েছিল। বাকি ছিল সুপ্রিম কোর্টের আপিল আর রাষ্ট্রপতির মার্জনা।

২০০১ সালে ক্ষমতায় আসে বিএনপি। তাদের সামনে সুযোগ ছিল সে মামলাটি চালিয়ে নেওয়ার এবং রায় কার্যকরের। আসলে বিএনপির জন্য ১৫ আগস্টের সব দায় মোচনের শেষ সুযোগ ছিল সেটি। সুযোগটি তারা নেয়নি। বরং নিষ্ঠুরতার সঙ্গে শেষ প্রান্তে থাকা বিচার প্রক্রিয়াটিকে পুরো পাঁচ বছর ডিপ ফ্রিজে রেখে দেয়।

১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর জন্ম হলেও বিএনপির আদর্শিক জন্ম ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। তাই ১৫ আগস্ট বেগম জিয়ার জন্মদিন পালন ইঙ্গিতপূর্ণ। বঙ্গবন্ধুর খুনিরা বাংলাদেশকে আবার পাকিস্তানি ভাবধারায় ফিরিয়ে নিতে চেয়েছিল। বিএনপি সেই আদর্শকেই এগিয়ে নিয়েছে এবং নিচ্ছে। তাই বারবার সুযোগ আসার পরও জিয়াউর রহমান বা বিএনপি ১৫ আগস্টের দায় এড়ানো বা গ্লানি মোচনের চেষ্টা করেনি। বরং আগ বাড়িয়ে দায় কাঁধে নিয়েছে। তাই ৭৫-এর ১৫ আগস্ট জন্ম না হলেও বঙ্গবন্ধু হত্যার রাজনৈতিক দায় বিএনপিকে নিতেই হবে।

লেখক: হেড অব নিউজ, এটিএন নিউজ


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর