বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মেজর সিনহা হত্যায় ৫ লাখ টাকার মিশন ছিল প্রদীপের

রিপোর্টার / ১৮৪ বার
আপডেট : রবিবার, ৩০ জানুয়ারী, ২০২২

সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খানকে ‘ডাকাত’ বলে গণপিটুনি দিয়ে হত্যার জন্য পাঁচ লাখ টাকার মিশন ছিল টেকনাফ থানার সাবেক ওসি প্রদীপ কুমার দাশের। এরই অংশ হিসেবে মসজিদের মাইকে ‘ডাকাত’ বলে ঘোষণাও দেওয়া হয়েছিল। সেখানে হত্যাচেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে শামলাপুর বাজারের কাছে পুলিশ চেকপোস্টে বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকতের গুলিতে নিহত হন সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান। মামলার রায়ের আগের দিন রবিবার সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ফরিদুল আলম।

ফরিদুল আলম বলেন, ২০২০ সালের ৩১ জুলাই মেজর সিনহা তার সহযোগী সিফাতকে নিয়ে টেকনাফের বাহারছড়ার নারিচবনিয়া মুইন্না পাহাড়ে ভিডিওচিত্র ধারণ করতে গিয়েছিলেন। তখন প্রদীপ ও লিয়াকত ‘ডাকাত’ বলে গণপিটুনি দিয়ে সিনহাকে হত্যা করতে চেয়েছিল। ওই এলাকার মাথাভাঙ্গা মসজিদের ইমাম হাফেজ জহিরুল ইসলাম বিষয়টি দেখে ফেলায় হত্যাচেষ্টার মিশন ব্যর্থ হয়। পরে পুলিশের সোর্স বাহারছড়া ইউনিয়নের শামলাপুরের মারিশবুনিয়া গ্রামের নুরুল আমিন, মো. নেজামুদ্দিন ও আয়াজ উদ্দিন মসজিদের ইমামকে ওসি প্রদীপের কথা বলে পাঁচ লাখ টাকার অফার দেন। কিন্তু ইমাম জহিরুল এতে রাজি হননি। তিনি বলেন, ওসি প্রদীপ পরিকল্পিতভাবে মেজর সিনহাকে হত্যা করেছে। হত্যার পরিকল্পনার কথা প্রদীপ ও লিয়াকতের পৃথক জিডিতে তা স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে। এটি আমরা আদালতে সন্দেহতীতভাবে প্রমাণ করতে পেরেছি। আমরা আদালতকে বলেছি আইনের পোশাক পরে আরও কেউ যাতে বেআইনি কাজ কাজ করার সাহস না পায়; সেজন্য অভিযুক্তদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক। আমরা আশা করি, আদালত অপরাধীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দেবেন।

ফরিদুল আলমের ভাষ্যমতে, ওসি প্রদীপ টেকনাফে চাঁদাবাজি, ক্রসফায়ার ও গুমসহ ধারাবাহিকভাবে নানা অপরাধ করে আসছিল। সিনহা মোহাম্মদ রাশেদ খান ‘জাস্ট গো’ নামে ডকুমেন্টারি বানানোর সময় ভুক্তভোগীরা ওসি প্রদীপের অপরাধের বিষয়ে মেজরকে প্রতিবেদন করতে অনুরোধ করেন। তখন মেজর বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে নেন। সেই সঙ্গে প্রদীপের বিভিন্ন অপরাধ নিয়ে ভুক্তভোগীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া শুরু করেন। বিষয়টি ওসি প্রদীপ জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। এরপর তাকে হত্যার পরিকল্পনার নীলনকশা তৈরি করে ওসি প্রদীপ।

২০২০ সালের ৩১ জুলাই রাতে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ রোডের শামলাপুর চেকপোস্টে পুলিশের গুলিতে নিহত হন সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর (অব.) সিনহা মো. রাশেদ খান। এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে তিনটি মামলা করে। পরে ৫ আগস্ট কক্সবাজার আদালতে টেকনাফ থানার বহিষ্কৃত ওসি প্রদীপ কুমার দাশ, বাহারছড়া তদন্ত কেন্দ্রের পরিদর্শক লিয়াকত আলীসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস। চারটি মামলা তদন্তের দায়িত্ব পায় র‍্যাব।

২০২০ সালের ৬ আগস্ট ওসি প্রদীপ, পরিদর্শক লিয়াকতসহ মামলার আসামি সাত পুলিশ সদস্য আদালতে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তদন্তে নেমে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় তিন বাসিন্দা, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের (এপিবিএন) তিন সদস্য ও ওসি প্রদীপের দেহরক্ষীসহ আরও সাত জনকে গ্রেফতার করে র‌্যাব। এরপর মামলার চার্জশিটভুক্ত আসামি কনস্টেবল সাগর দেবের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে আলোচিত এই মামলার ১৫ আসামির সবাই আইনের আওতায় আসে। পাশাপাশি সিনহা নিহতের ঘটনায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ মিজানুর রহমানকে প্রধান করে অতিরিক্ত ডিআইজি এবং লে. কর্নেল মর্যাদার একজন সেনা কর্মকর্তাকে সদস্য করে উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। পরে ওই বছরের ১৩ ডিসেম্বর ওসি প্রদীপ কুমার দাশসহ ১৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেন তদন্তকারী কর্মকর্তা ও র‍্যাব-১৫ কক্সবাজারের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. খাইরুল ইসলাম।

২০২১ সালের ২৭ জুন জেলা ও দায়রা জজ আদালতে মামলার চার্জ গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে বিচারকাজ শুরু হয়। ২৩ আগস্ট থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৮ দফায় ৮৩ জনের মধ্যে ৬৫ জন সাক্ষ্য দেন। এর মধ্যে প্রথম দফায় ২৩ থেকে ২৫ আগস্ট পর্যন্ত তিন দিনে দুই জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। দ্বিতীয় দফায় ৫ থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় চার জনের। তৃতীয় দফায় ২০ থেকে ২২ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে জেরা সম্পন্ন হয় আট জনের। চতুর্থ দফায় ২৮ ও ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দুই দিনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা করা হয় ছয় জনের। পঞ্চম দফায় ১০ থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে ১৫ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। ষষ্ঠ দফায় ২৫ থেকে ২৭ অক্টোবর পর্যন্ত তিন দিনে সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয় ২৪ জনের।

সপ্তম দফায় ১৫ থেকে ১৭ নভেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তাসহ ছয় জন সাক্ষ্য দেন। এদের মধ্যে পাঁচ জনের জেরা সম্পন্ন হলেও তদন্ত কর্মকর্তার জেরা অসম্পন্ন ছিল। সর্বশেষ অষ্টম দফায় ২৯ নভেম্বর থেকে ১ ডিসেম্বর পর্যন্ত তিন দিনে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন হয়। এরপর ৬ ও ৭ ডিসেম্বর আসামিরা ফৌজদারি কার্যবিধি ৩৪২ ধারায় আদালতে জবানবন্দি দেন। সর্বশেষে ৯ থেকে ১২ জানুয়ারি পর্যন্ত মামলায় উভয়পক্ষের আইনজীবীরা যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করেন। যুক্তি-তর্ক উপস্থাপনের শেষ দিনে আদালত ৩১ জানুয়ারি মামলার রায় ঘোষণার দিন ধার্য করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর