বুধবার, ১২ জুন ২০২৪, ০৯:৫০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
সৌদি আরবে পৌঁছেছেন ১৫ লাখের বেশি বিদেশি হজযাত্রী বৃষ্টিতে ভেসে গেলো নেপাল-শ্রীলঙ্কা ম্যাচ, সুপার এইটে দক্ষিণ আফ্রিকা বেনজীরের আরো সম্পত্তি ও টেলিভিশন ক্রোকের নির্দেশ বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটারে গ্রাহকদের ভোগান্তি, তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের দেশের কারাগারে ৩৬৩ বিদেশি, বেশি ভারতের ছয় অঞ্চলে তাপপ্রবাহ, অস্বস্তিকর গরম থাকতে পারে কয়েকদিন কুয়েতে শ্রমিকদের আবাসিক ভবনে আগুন, নিহত ৪১ ড. ইউনূসের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হতে পারে: দুদক পিপি ব্রিকসে বাংলাদেশ যুক্ত হলে সহযোগিতার নতুন দুয়ার খুলবে তারেকসহ পলাতক আসামিদের গ্রেফতারের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

ফেরির রুট সরিয়ে নেওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল

রিপোর্টার / ১২৪ বার
আপডেট : শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২১

পদ্মা নদীতে এখন তীব্র স্রোত, এ স্রোতে ফেরি চলাচলে সমস্যা হচ্ছে ফলে বার বার পদ্মা সেতুতে ধাক্কা লাগছে এমন মন্তব্য করে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ফেরির রুট সরিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা উচিত।

শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে পদ্মা সেতুতে বার বার ফেরির ধাক্কা লাগার বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে দলের মহাসচিব এ কথা বলে

মির্জা ফখরুল বলেন, রানা প্লাজা যখন ভাঙলো তখন মহীউদ্দীন খান আলমগীরের মতো একজন শিক্ষিত মানুষ বললেন বিএনপি ঝাঁকি দিয়ে ফেলে দিয়েছে। এটাতো কমনসেন্সের ব্যাপার, ফেরি চালাতে পারছে না, এখন পদ্মায় তীব্র স্রোত। পদ্মাতো ছোটখাটো নদী না। সেই পদ্মার স্রোতে এ ধরনের ছোটখাটো ফেরিতো কিছুটা ডাইভার্ট হবেই। সেজন্য দরকার ফেরির রুটটা সরিয়ে অন্য দিকে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করা। এটা উচিত ছিল। তাদের অবশ্য সুবিধা আছে, ভেঙে গেলে আবার নতুন করে বানাবে, অনেক টাকা খরচ করতে পারবে। বুড়িগঙ্গার উপরে প্রথম যে সেতুটি, সেটাতে জাহাজ লেগে গিয়ে ভেঙে গেল। সেখানে আবার কয়েক হাজার কোটি টাকার প্রজেক্ট হবে। প্রজেক্টই তাদের দরকার।

তিনি বলেন, পদ্মা সেতুর শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ভিডিও করা ও ছবি তোলার জন্য ১৩৫ কোটি টাকার একটা প্রজেক্ট দিয়েছে। টাকাতো গৌড়ি সেন দেয়, সেজন্য অসুবিধা নেই। কয়েকদিন আগে পত্রিকায় দেখলাম, আমরা আগে যে ফুলছড়ি ঘাট-বাহাদুরাবাদ ঘাট দিয়ে পার হয়ে গাইবান্ধা হয়ে যেতাম। যখন যমুনা সেতু হয়নি। সেটা নাকি আবার চালু করার জন্য ১৩৫ কোটি টাকা অলরেডি খরচ হয়ে গেছে। এখন দেখা যাচ্ছে জাহাজ আর চলে না। কারণ নাব্যতা নেই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে মির্জা ফখরুল বলেন, পাকিস্তান ভারতকে বলে লাভ নেই। বাংলাদেশে কী হচ্ছে সেটা বলতে হবে। আমরা ১৯৭১ সালে যে আশা-আকাঙ্খা নিয়ে যুদ্ধ করেছিলাম, লাখ লাখ মানুষ প্রাণ দিয়েছে। গুম হয়ে যাওয়ার জন্য? ইলিয়াস আলী একজন সংসদ সদস্য, চৌধুরী আলম একজন জনপ্রিয় কমিশনার, একজন সাবেক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল, একজন ব্যারিস্টার তাদের কোনো খোঁজ নেই। আমাদের দলের প্রায় ৫০০ জনের ওপরে গুম হয়ে গেছে। সেখানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এ বক্তব্যে তারা যে অপকর্মের সঙ্গে জড়িত সেটা প্রমাণ করেছেন।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, নোয়াখালীতে বিএনপি নেতা হারুন অর রশীদ মোল্লাকে আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। একইসঙ্গে প্রকৃত অপরাধীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করছি।

বাংলাদেশে টিকা সংগ্রহে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী হৃদরোগ বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক চৌধুরী হাফিজ হাসান, অধ্যাপক মাসুদুল হাসান, অধ্যাপক জিয়াউদ্দিন আহমেদ সাদেক এবং সাবেক ইউএন কর্মকর্তা মাহমুদ উদ সামস চৌধুরীর ব্যক্তিগত উদ্যোগের জন্য তাদের প্রতি দলের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বিএনপির মহাসচিব।

লকডাউন’ শিথিল করায় বিএনপির উদ্বেগ

করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বাড়া অব্যাহত থাকা সত্ত্বেও বিশেষজ্ঞদের মতামতকে উপেক্ষা করে ‘লকডাউন’ শিথিল ও ১৯ আগস্ট থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ছাড়া সবকিছু খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্তে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বিএনপি।

শনিবার (১৪ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ বক্তব্য তুলে ধরেন। শুক্রবার (১৩ আগস্ট) বিকেলে বিএনপির স্থায়ী কমিটির ভার্চ্যুয়াল সভার সিদ্ধান্ত জানাতে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি মনে করে এ সিদ্ধান্ত আত্মঘাতী। করোনা সংক্রমণের এবং মৃত্যুর সংখ্যা হ্রাস না পাওয়ার পরেও এ সিদ্ধান্ত নেওয়ায় দেশে সংক্রমণ বাড়ার আরও বেশি আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিএনপি বরাবরই বলে এসেছে ‘দিন আনে দিন খায়’ মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা, নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে খাবার ও নগদ টাকা পৌঁছানো সব চেয়ে জরুরি ছিল। এতে সরকার কর্ণপাত করেনি। সেই কারণেই অপরিকল্পিত ‘লকডাউন’ ফলপ্রসূ হয়নি।

‘অন্যদিকে টিকা সংগ্রহ সংরক্ষণ ও বিতরণের কোনো বিজ্ঞান সম্মত বাস্তব সম্মত ব্যবস্থাপনা তৈরি করতে পারেনি। উপরন্ত দুর্নীতির আশ্রয় গ্রহণ করে অন্যান্য উৎস থেকে টিকা পাওয়ার সম্ভাবনা বিনষ্ট করেছে। বিএনপি মনে করে টিকা নিয়ে বিএনপি কোনো রাজনীতি করছে না। অপরাজনীতি করছে আওয়ামী লীগ সরকার। মিথ্যা ও ভুল তথ্য দিয়ে একদিকে জনগণকে প্রতারণা করছে অন্যদিকে জনগণকে চরম দুর্ভোগ ও ভোগান্তির মধ্যে ফেলেছে। ’

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সরকারের হিসাবেই দেখা যাচ্ছে ২ ডোজ টিকা পেয়েছে মাত্র ৫২ লাখ মানুষ। প্রথম ডোজ পেয়েছে ১ কোটি ৫৩ লাখ। অথচ জনসংখ্যা প্রায় ১৮ কোটি। আজ পর্যন্ত সরকার সুনির্দিষ্ট রোডম্যাপ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। টিকা নিয়ে এ প্রতারণা অপরাধের সামিল। জনগণের জীবন বিপন্ন করার সব দায় এ সরকারকেই বহন করতে হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সভায় মেশিন রিডেবল পাসপোর্ট ছাপানো বন্ধ করায় উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়। সরকারের এ সিদ্ধান্তের ফলে বিদেশে কর্মরত ও দেশে ফেরত আসা প্রবাসীরা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। ইতোমধ্যে অনেক প্রবাসী চাকরি হারিয়েছে। অনেকে বিদেশে বিব্রতকর অবস্থার সম্মুখীন হয়েছে। সভায় অবিলম্বে পাসপোর্ট দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানানো হয়।

‘রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল নেটওয়ার্ক টেলিটক লাইফ সাপোর্টে আছে’ পরিকল্পনা মন্ত্রীর এ মন্তব্যে উদ্বেগ প্রকাশ বিএনপির মহাসচিব বলেন, বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলো যখন মুনাফা করছে সেই সময় টেলিটক সরকারের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির কারণে লোকসানি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হচ্ছে এবং সেই লোকসানি প্রতিষ্ঠানে দুই হাজার কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদন করা সরকারের অযোগ্যতা ও দুর্নীতির চিত্রই তুলে ধরে। এ প্রতিষ্ঠানটিকে দুর্নীতির মাধ্যমে সরকারি দলের কোনো ব্যক্তির মালিকানায় দেওয়ার চক্রান্ত কিনা সেই প্রশ্ন জনগণের সামনে।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিএনপি নেতা ও সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলীসহ বিভিন্ন সময়ে বাংলাদেশে গুম হওয়া ৩৪ ব্যক্তির অবস্থান ও ভাগ্য জানতে চেয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের ওয়াকিং গ্রুপ অন এনফোর্সড অর ইনভলানটারি ডিসঅ্যাপিয়ারেন্স কর্তৃক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়ার বিষয়ে সভায় আলোচনা হয়। সভা মনে করে এ চিঠি দেওয়ায় গুমের বিষয়ে বিএনপির দাবির সত্যতা প্রমাণিত হয়েছে।

তিনি বলেন, সভায় আগামী ১ সেপ্টেম্বর দলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী যথাযথ মর্যাদার সঙ্গে পালনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। কেন্দ্রীয় কার্যালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়।

বিএনপির মহাসচিব বলেন, সভায় আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ডে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান বীর উত্তমকে জড়িত করার হীন প্রচেষ্টার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানানো হয়। শুধুমাত্র রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে ইতিহাসকে বিকৃত ও নিকৃষ্ট মিথ্যাচার করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে সরকার। এ ধরনের অপপ্রচার প্রকৃত সত্যকে আড়াল করার একটা অপচেষ্টা মাত্র।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর