সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি কোপায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ইংল্যান্ড-স্পেন মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেবে ইইউভুক্ত চার দেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না : প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ওপর হামলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিন্দা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ট্রাম্পের হামলাকারীর নাম পরিচয় জানালো এফবিআই

নিষেধাজ্ঞার পরও যেভাবে ঘুরে দাঁড়াচ্ছে রুবল

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ৯১ বার
আপডেট : বুধবার, ৬ এপ্রিল, ২০২২

ইউক্রেনে আক্রমণের পর পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারির পর রাশিয়ার মুদ্রা রুবলের দরপতন হয়েছিল ৪০ শতাংশ, ১ ডলারের বিপরীতে ১৩৯ রুবল। ৭ মার্চ সর্বনিম্ন অবস্থানে থাকা রুবল নাটকীয়ভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এপ্রিলের প্রথম সপ্তাহে ১ ডলারের মূল্য দাঁড়িয়েছে ৮৪ রুবলে।

উক্রেনে আগ্রাসন শুরুর আগে এমন অবস্থানেই ছিল মুদ্রাটি। এটিকে স্বল্পকালীন পুনরুদ্ধার বলতে রাজি নন অর্থনীতিবিদরা। কিন্তু পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা জারি থাকা এবং অনেক বিস্তৃত হওয়ার পরও কীভাবে টিকে আছে রুবল, তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে।

নিষেধাজ্ঞার ফাঁক-ফোকর

রুশ মুদ্রার এই ঘুরে দাঁড়ানোর নেপথ্যে অনেক কিছুই কাজ করছে। প্রথম কারণ নিষেধাজ্ঞায় থাকা বড় একটি ফাঁক, যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির পশ্চিমা মিত্রদের জারি করা নিষেধাজ্ঞার আওতায় ছিল না প্রাকৃতিক গ্যাস। নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে যাতে করে রাশিয়া বিদেশি মুদ্রা- ডলার ও ইউরো সংগ্রহ করতে না পারে। কিন্তু কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রাশিয়ার গ্যাস আমদানি অব্যাহত রেখেছে। কারণ তাদের চাহিদা পূরণের মতো বিকল্প জ্বালানির উৎস নেই।

এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে তেল ও গ্যাসের মূল্যবৃদ্ধি এবং চীন ও ভারতের মতো বড় অর্থনীতির দেশের সঙ্গে রাশিয়ার বাণিজ্যিক সম্পর্কের সহনশীলতা। এর ফলে রাশিয়ায় বিদেশি মুদ্রার একটি স্থির প্রবাহ অব্যাহত ছিল। এতে রাশিয়ার দেউলিয়া হয়ে পড়ার উদ্বেগ নিরসন করেছে এবং রুবলকে ঘুরে দাঁড়াতে সহযোগিতা করেছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যে বৃহত্তম ও প্রভাবশালী ছিল রাশিয়ার বিদেশি অ্যাকাউন্ট জব্দ করা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রাশিয়ার ৬৪০ বিলিয়ন ডলার মূল্যের ইউরো, ডলার, ইয়েন, অন্যান্য বিদেশি মুদ্রা ও স্বর্ণ ছিল। এর অর্ধেক যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংকে রাখা ছিল। নিষেধাজ্ঞার কারণে এই অর্থ ব্যবহার করতে পারেনি রাশিয়া। কিন্তু রাষ্ট্রীয় ঋণের সুদ পরিশোধ এক্ষেত্রে ছিল ব্যতিক্রম। ফলে আর্থিক মধ্যস্থতাকারীরা রাশিয়ার হয়ে অর্থ পরিশোধ করতে পেরেছে। এই মাসে এই সুযোগ বন্ধ হচ্ছে। কিন্তু এর আগেই এটি রাশিয়ার বড় উপকারে এসেছে। এই সুযোগ না থাকলে রাশিয়াকে রুবল বিক্রি করে ডলার কিনতে হত। যা রুবলের আরও দরপতন ঘটাতো। আর যদি ডলার সংগ্রহ করতে না পারত তাহলে দেউলিয়া হয়ে যেত।

দেশীয় আর্থিক ব্যবস্থাপনা

রুবলের ঘুরে দাঁড়ানোতে বাইরের ফ্যাক্টরগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। তবে দেশে নেওয়া কিছু উদ্যোগেরও ভূমিকা কম ছিল না। ২৮ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার কেন্দীয় ব্যাংক সুদের হার ২০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়েছে। যারা রুবল বিক্রি করে ডলার বা ইউরো কিনতে চাচ্ছিলেন তারা এই বড় প্রণোদনার কারণে থেমে গেছেন। খুব কম মানুষ রুবল বিক্রি করেছেন।

আরেকটি উদ্যোগ ছিল, রুশ বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানগুলোর বিভিন্ন দেশে যে অর্থ আয় করে সেগুলোর ৮০ শতাংশ রুবলে পরিণত করার বাধ্যবাধকতা। এর অর্থ হলো কোনও রুশ কোম্পানি যদি ফ্রান্সে ১০০ মিলিয়ন ইউরো মূল্যের পণ্য বিক্রি করে তাহলে সেগুলোর ৮০ মিলিয়ন ইউরোকে রুবলে বিনিময় করতে হবে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে অনেক রুশ কোম্পানি ব্যবসা করছে, তাদের হাতে প্রচুর ইউরো, ডলার ও ইয়েন রয়েছে। ৮০ শতাংশ আয় রুবলে পরিণত করার নির্দেশে রুশ মুদ্রার চাহিদা বেড়েছে। যা এর মূল্যবৃদ্ধিতে সহযোগিতা করেছে।

ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বিদেশিদের মালিকানাধীন সিকিউরিটিজ বিক্রিতে রুশ ব্রোকারদের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। রুশ কর্পোরেট কোম্পানির শেয়ার ও সরকারি বন্ডে অনেক বিদেশির বিনিয়োগ রয়েছে। সংকটের কারণে তারা হয়ত এগুলো বিক্রি করতে চাইতেন। কিন্তু বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে স্টক ও বন্ড বাজারের অর্থ দেশেই ছিল। যা রুবলের পতন ঠেকিয়েছে।

রাশিয়ার নাগরিকদেরও নিশানা করেছে সরকার। রুশদের বিদেশে টাকা পাঠানোর ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ জারি করা হয়। প্রাথমিক নিষেধাজ্ঞা সব বিদেশি বিনিময় ঋণ ও লেনদেন স্থগিত করা হয়। এতে বিদেশি মুদ্রা দেশেই থাকে এবং নাগরিকদের রুবল ডলার বা ইউরোতে বিক্রিতে অনুৎসাহিত করে। এই নিষেধাজ্ঞা এখন কিছুটা শিথিল করা হয়েছে। কিন্তু এই বছরের শেষ পর্যন্ত ১০ হাজার ডলারের বেশি পাঠানো যাবে না।

এক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখতে পারে ইউরোপীয় ক্রেতাদের রুবলে তেল ও গ্যাসের মূল্য পরিশোধে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের দাবি। প্রাকৃতিক গ্যাস ক্রয় চুক্তিতে পরিশোধ ব্যবস্থা সাধারণত ডলার বা ইউরোতে থাকে। ইউরোপীয় দেশগুলোর কাছে রুবলের মজুত নেই। পুতিন যদি এসব দেশকে তার দাবি মেনে নিতে বাধ্য করতে পারেন তাহলে তাদের রুবল ক্রয় করতে হবে। এতে বাড়বে রুবলের চাহিদা, স্বাভাবিকভাবেই মুদ্রার মানও বাড়বে। এমন ধারণা থেকে রুবলের মূল্যবৃদ্ধি হতে পারে। সূত্র: এনপিআর


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর