বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

দু’বছর পর তিন দিনব্যাপী ডিসি সম্মেলন শুরু হচ্ছে কাল মঙ্গলবার

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ৯১ বার
আপডেট : সোমবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০২২

করোনা ভাইরাস মহামারির কারণে দু’বছর পর তিন দিনব্যাপী জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলন শুরু হচ্ছে আগামী মঙ্গলবার ১৮ জানুয়ারি। শেষ হবে আগামী ২০ জানুয়ারি। মহামারির কারণে পাঁচ দিনের সম্মেলন হচ্ছে তিন দিন। সংক্ষিপ্ত করতে হয়েছে সবই। সম্মেলনের কাঠামোতেও আনতে হয়েছে পরিবর্তন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সকাল ১০টায় গণভবন থেকে ভার্চ্যুয়ালি ডিসি সম্মেলন উদ্বোধন করবেন। এবার জেলা প্রশাসক সম্মেলনের ভেন্যু রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তন। সরকারের নীতি-নির্ধারক ও জেলা প্রশাসকদের মধ্যে সামনা-সামনি মতবিনিময় এবং প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়ার জন্য প্রতিবছর ডিসি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

প্রতিবারের ডিসি সম্মেলনে ৬৪ জেলার ডিসি ও ৮ বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার যোগ দিলেও এবার দুজন বিভাগীয় কমিশনার সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। করোনা আক্রান্ত হওয়ায় রাজশাহীর বিভাগীয় কমিশনার জি এস এম জাফরুল্লাহ, এবং বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মো. আমিন উল আহসান থাকছেন না সম্মেলনে। একই কারণে অনুপস্থিত থাকছেন কক্সবাজারের ডিসি মো. মামুনুর রশীদ, পটুয়াখালীর মো. কামাল হোসেন, চুয়াডাঙ্গার মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম খান, রাজশাহীর আব্দুল জলিল, ও লক্ষ্মীপুরের মো. আনোয়ার হোছাইন আকন্দ।

সোমবার জেলা প্রশাসক সম্মেলন উপলক্ষে মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য নিশ্চিত করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, ডিসি সম্মেলন এবার ওসমানীতে নিয়ে গেছি, যাতে পর্যাপ্ত স্পেস পাওয়া যায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানেও কাউকে দাওয়াত দেওয়া হয়নি। শুধু ১৫ জন মন্ত্রী ও ১৫ জন সচিবকে দাওয়াত দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, কার্য অধিবেশনগুলোতে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী ও সচিব এসে স্টেজে বসবেন, জেলা প্রশাসকরা নিচে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসবেন।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব বলেন, কোভিড আক্রান্ত হওয়ায় যে সব বিভাগীয় কমিশনার বা জেলা প্রশাসক আসছেন না তাদের পরিবর্তে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসকরা যোগদান করবেন। তিনি জানিয়েছেন, ডিসিদের নির্দেশনা দিয়েছি— তাদের গানম্যান, গাড়িচালক এবং সঙ্গে যারা আসবেন সবাইকে অবশ্যই আরটি-পিসিআর পরীক্ষা করে আসতে হবে। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে একাধিক জেলার ডিসি জানিয়েছেন, তারা ইতোমধ্যেই এ সম্মেলনে অংশ নিতে ঢাকার পথে রওয়ানা হয়েছেন। জেলায় দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তাদের সমস্যা, চ্যালেঞ্জগুলো উপস্থাপন করবেন তারা।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবারের ডিসি সম্মেলনে অধিবেশন হবে ২৫টি। এর মধ্যে প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, স্পিকার ও বিচারপতির সঙ্গে চারটি বাদ দিয়ে কার্য অধিবেশন হবে ২১টি। ডিসি সম্মেলনে উপস্থাপনের জন্য প্রস্তাব পাওয়া গেছে ২৬৩টি। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৮টি প্রস্তাব ভূমি মন্ত্রণালয়ের। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ১৬টি, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ১৪টি, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের ১২টি এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে প্রস্তাব পাওয়া গেছে ১০টি।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্র জানিয়েছে, এবার ডিসি সম্মেলনে ১২টি ইস্যু গুরুত্ব পাচ্ছে—ভূমি ব্যবস্থাপনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম জোরদার, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যক্রম, স্থানীয় পর্যায়ে কর্ম সৃজন ও দারিদ্র্য বিমোচন কর্মসূচি বাস্তবায়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচি বাস্তবায়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং ই-গভর্নেন্স, শিক্ষার মান উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ, স্বাস্থ্যসেবা ও পরিবার কল্যাণ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও দূষণ রোধ, ভৌত অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নয়নমূলক কার্যক্রমের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও সমন্বয়। অন্য বছরগুলোর ডিসি সম্মেলনে প্রতিটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও সচিবরা জেলা প্রশাসকদের সঙ্গে নিজ নিজ মন্ত্রণালয়ের কর্মসূচি সম্পর্কে মতবিনিময় এবং বাস্তবায়নের লক্ষ্যে পরামর্শ বা সুপারিশ আদান প্রদান করেন। এবার এর ব্যত্যয় ঘটানো হয়েছে। এবার ডিসিদের সঙ্গে কর্ম অধিবেশনে মাত্র ১৫ জন মন্ত্রী ও ১৫ জন সচিব অংশ নেবেন। প্রতিবার সশরীরে প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ের শাপলা হলে ডিসিদের সঙ্গে উদ্বোধনী অধিবেশনে ভাষণ দিলেও এবার তা হচ্ছে না। একইভাবে কর্ম অধিবেশনগুলো সচিবালয়ের মন্ত্রিসভা কক্ষে অনুষ্ঠিত হলেও এবার নেওয়া হয়েছে সচিবালয়ের উল্টো দিকে ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। তাতে ভার্চুয়ালি যুক্ত হবেন প্রধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, জাতীয় সংসদের স্পিকার ও প্রধান বিচারপতি। ২০১৯ সালের ডিসি সম্মেলনের বাস্তবায়ন হার ৭৫ শতাংশ ছিল বলে জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর