বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

তরুণরাই আক্রান্ত হচ্ছে বেশি, মৃত্যু ষাটোর্ধ্বদের

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ২০৮ বার
আপডেট : বৃহস্পতিবার, ৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২২

করোনার আরেক ঢেউ চলছে। প্রতিদিন আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃত্যু বাড়ছে। তবু মানুষ স্বাস্থ্যবিধি মানছে না। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে করোনার নতুন ভ্যারিয়েন্ট ওমিক্রন। স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই তরুণ, যাদের বয়স ২৫-৩৪ বছরের মধ্যে। আর যারা মারা যাচ্ছেন তারা বেশিরভাগই ষাটোর্ধ্ব।

তরুণদের আক্রান্তের হার বেশি

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ জানুয়ারি একদিনে শনাক্ত ছিল ১৬ হাজার ৩৩ জন। তাদের মধ্যে ২১-৩৫ বছর বয়সী ছিল ৪ হাজার ২৭ জন, ৩৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীদের সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৮৬ জন। এরপরই ছিল ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সীদের অবস্থান, যা সংখ্যায় ১ হাজার ৯৬৯। অর্থাৎ, ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী মোট ৮ হাজার ৯৮২ জন।

২৬ জানুয়ারি শনাক্ত হয় ১৫ হাজার ৫২৭ জন। যার মধ্যে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আছেন ৯ হাজার ৩১২ জন। ২৭ জানুয়ারি শনাক্ত হওয়া ১৫ হাজার ৮০৭ জনের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সীর সংখ্যা ৯ হাজার ২০১ জন। ২৮ জানুয়ারি শনাক্ত হওয়া ১৫ হাজার ৪৪০ জনের মধ্যে ১৫ থেকে ৪৪ বছর বয়সী আছেন ৫ হাজার ৮৮৪ জন। আক্রান্তদের বেশিরভাগই পুরুষ।

মৃত্যু বেশি ষাটোর্ধ্বদের

করোনায় গত জানুয়ারিতে মারা গেছেন ৩২২ জন। এছাড়া গত ২৪ জানুয়ারি থেকে ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত মারা গেছেন ১৪০ জন। তার আগের সপ্তাহে তা ছিল ৭৯ জন। এক সপ্তাহের ব্যবধানে মৃত্যু প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে। মৃতদের মধ্যে ৬১ থেকে ৭০ বছর বয়সী ছিল ২৩ দশমিক ৬ শতাংশ, ৭১ থেকে ৮০ বছর বয়সী ছিল ২০ শতাংশ। এছাড়া ৫১ থেকে ৬০ বছর বয়সী ছিলেন ১৫ দশমিক ৭ শতাংশ, ৪১ থেকে ৫০ বছর বয়সী ছিলেন ১২ দশমিক ৯ শতাংশ।

ঢাকায় সংক্রমণ হার সবচেয়ে বেশি

সংক্রমণের হারের দিক দিয়ে ঢাকা শহর এবং ঢাকা বিভাগ আছে প্রথমেই। ৩১ জানুয়ারির হিসাব অনুযায়ী ঢাকা শহরে সংক্রমণের হার ২৮ শতাংশ এবং সর্বশেষ ৩ ফেব্রুয়ারির হিসাব অনুযায়ী ঢাকা শহরে সংক্রমণের হার ২৩ দশমিক ৫৬ শতাংশ। সংক্রমণের দিক দিয়ে ঢাকার পর আছে চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, ময়মনসিংহ ও বরিশাল।

দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে ছড়িয়ে পড়া করোনার নতুন উপধরন আরও বেশি সংক্রামক হতে পারে। এ কারণে আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার বিকল্প নেই বলে সতর্ক করেছে স্বাস্থ্য অধিদফতর। অধিদফতরের মুখপাত্র অধ্যাপক ডা. নাজমুল ইসলাম বলেন, ওমিক্রনের নতুন যে ভ্যারিয়েন্টটি দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে এসেছে, তারও একটি সাব-ভ্যারিয়েন্ট বিশ্বের ৫৭টি দেশে শনাক্ত হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে বিভিন্ন গবেষণা উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, এই সাব-ভ্যারিয়েন্টটি কিন্তু আগের তুলনায় বেশি সংক্রামক হতে পারে। বেশি সংক্রামক হলে ক্ষতি করার সম্ভাবনাও বেড়ে যায়। কাজেই আমাদের আত্মতুষ্টির কোনও সুযোগ নেই। রোগীর সংখ্যা কোনোভাবেই যাতে না বাড়ে সে জন্য আমাদের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলাসহ দায়িত্বপূর্ণ আচরণ করতে হবে। তিনি বলেন, সংখ্যার বিচারে রোগীর সংখ্যা বেড়েছে এবং রোগীর সংখ্যা ক্রমাগত বাড়তে থাকলে পুরো স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর চাপ সৃষ্টি করবে।

সরকারের পাবলিক হেলথ অ্যাডভাইজারি কমিটির সদস্য ও জ্যেষ্ঠ জনস্বাস্থ্যবিদ ডা. আবু জামিল ফয়সাল বলেন, করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর তালিকায় ষাটোর্ধ্বদের বেশি থাকার কারণ, তারা আগে থেকেই অন্যান্য জটিল রোগে আক্রান্ত থাকেন। অন্যান্য অসুখে ভোগার কারণে তাদের টিকে থাকাটা খুব কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। তিনি বলেন, শুধু বললেই হবে না যে মাস্ক পরতে হবে। সেটা পরতে বাধ্য করতে হবে। লোকজনকে বলবে মাস্ক পরার কথা স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের সম্পৃক্ততার কথা তো কেউ বলছে না। এটা তদারকি করবে কে সেটি বলা হয়নি। বাস্তবায়ন তো একার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব না। অন্যান্য মন্ত্রণালয় এবং সংস্থার দায়িত্ব আছে। তাদের মধ্যে সমন্বয় দরকার। লকডাউন দিয়ে যে লাভ হয় না তা আমরা আগেই দেখেছি। সুতরাং মাস্ক পরার ওপর জোর দিতে হবে। স্বাস্থ্যবিধি পালন না করলে সংক্রমণ ঠেকানো যাবে না।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর