বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

খালেদা জিয়ার চিকিৎসা রাজনীতি

আনিস আলমগীর / ২৬৫ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২১

বেশ ক’দিনের ধূম্রজালের পর প্রথমবারের মতো গত ২৮ নভেম্বর ২০২১ সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার চিকিৎসকদের তরফ থেকে সংবাদ সম্মেলন করে বলা হয়েছে তিনি লিভার সিরোসিসে আক্রান্ত হয়েছেন। প্রথমবারের মতো জনগণ জানতে পারলো খালেদা জিয়া বর্তমানে কোন রোগে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তবে যে হাসপাতালে খালেদা জিয়া চিকিৎসাধীন রয়েছেন, বেসরকারি সেই হাসপাতালের কোনও চিকিৎসক সংবাদ সম্মেলনে ছিলেন না। চিকিৎসা নিয়ে মিডিয়ায় অনেক রিপোর্ট হয়েছে, বিএনপি নেতারাও ডাক্তারদের সূত্রে বলছেন যে তার শারীরিক অবস্থা এত খারাপ, দেশের বাইরে চিকিৎসার না করালে সুস্থ হবেন না। এমনকি খালেদা জিয়াকে স্লো-পয়জনিং করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন।

এখন ডাক্তারদের এই প্রকাশ্যে বলাটা কিছুটা হলেও গুরুত্ব বহন করে। বিশেষ করে বিএনপি নেতারা যখন সকাল-সন্ধ্যা খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্য নিয়ে নানা মতামত দিচ্ছিলেন তখন অনেকে তাদের যথাযথ কর্তৃপক্ষ মানতে নারাজ ছিল। অবশ্য খালেদা জিয়ার মেডিক্যাল বোর্ডের চিকিৎসকরাও বেশিরভাগই বিএনপি দলের লোক। এই বোর্ডের চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের সাধ্য অনুযায়ী যতটুকু করার ছিল, তারা তারা করেছেন। পরবর্তী চিকিৎসা যুক্তরাজ্য, জার্মানি অথবা যুক্তরাষ্ট্রে করার ব্যবস্থা করার জন্য পরিবারকে বলেছেন।

খালেদা জিয়া অসুস্থতা, এটা নিয়ে সরকার এবং বিএনপির মধ্যে কোনও বিতর্ক নেই। তিনি কীভাবে চিকিৎসা নেবেন সেটা নিয়েই বিতর্ক, তিনি জেলে যাওয়ার পর থেকেই।  ২০১৮ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি থেকে তিনি কারাগারে যান। জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট ও জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় তাকে মোট ১৭ বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়েছে। সরকার বিশেষ ক্ষমতায় ২০২০ সালের ২৫ মার্চ থেকে এই সাজা স্থগিত রেখেছে এবং তিনি নিজ বাসায় অনেকটা গৃহবন্দির মতো আছেন, হাসপাতালে ভর্তির আগ পর্যন্ত।

বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার পক্ষে যুক্তি হিসেবে বলা হচ্ছে খালেদা জিয়ার শরীরের কোলনে রক্ত জমাট বেঁধে আছে। সর্বশেষ কোলনোস্কোপি করার সময় রক্ত জমাট বেঁধে থাকার কারণে কী রক্তক্ষরণ হচ্ছে, সেই উৎসও শনাক্ত করা যায়নি। তবে বাংলাদেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাপনার সর্বোচ্চ যেটুকু করণীয় আছে, সেটা ব্যবহার করে তারা আপাতত রক্তক্ষরণ বন্ধ করেছেন। কিন্তু সেখানে আবারও রক্তক্ষরণের ঝুঁকি আছে। দেশে প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি নেই এই চিকিৎসার।

বাংলাদেশের দুর্ভাগ্য বলতে হচ্ছে যে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, সংসদের বিরোধীদলীয় নেত্রী- সবারই চিকিৎসা নিতে দেশের বাইরে যেতে হচ্ছে। খালেদা জিয়া দেশে চিকিৎসা নিতেনই না, কিন্তু মামলার কারণে তিনি দেশে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হয়েছেন এবং মামলা চলাকালেও একবার লন্ডনে চিকিৎসা নিয়ে এসেছেন। বাংলাদেশের সাধারণ জনগণের সাধারণ চিকিৎসার জন্যও ঢাকায় আসতে হয়। দেশের বাইরে ব্যয়বহুল চিকিৎসা সবার কপালে জোটে না। রাজনীতিবিদদের চিকিৎসার জন্য বারবার বিদেশে ছুটে যাওয়া, সাধারণ রোগের চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসা প্রমাণ করে দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা কতটা নাজুক।

খালেদা জিয়ার মুক্তির ক্ষেত্রে শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না এবং দেশের পছন্দ মতো যেকোনও হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন। কিন্তু দণ্ড স্থগিত করার পর থেকে তার বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে পরিবার এবং দল গুরুত্বারোপ করছে। তাদের যুক্তি এই চিকিৎসা দেশে সম্ভব না, কিন্তু সরকারের যুক্তি তাকে পাঠানো সম্ভব না প্রচলিত আইনে। তাকে সুযোগ নিতে হলে আবার জেলে ফেরত যেতে হবে। তবে এ সংক্রান্ত বেগম খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদনটিও সরকার খারিজ করে দেয়নি।

এটা সবাই জানে যে বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার আইনগত বাধা দূর করার জন্য সরকারের আশীর্বাদ ছাড়া কোনও উপায় নেই। সরকার যদি বেগম জিয়ার পরিবারের আবেদনটি গ্রহণ না করে তাহলে সেটা ঝুলিয়ে রাখার দরকার নেই, সিদ্ধান্ত জানিয়ে দেওয়া ভালো, যাতে তার পরিবার পরবর্তী আইনি পথে হাঁটতে পারে।

অবশ্য এটাও সরকারের কাছে পরিষ্কার যে এই চিকিৎসা নিয়ে সরকারের সঙ্গে রাজনীতি করছে বিএনপি। সাজাপ্রাপ্ত আসামির মুক্তির জন্য খালেদা জিয়ার হাতে ক্ষমা প্রার্থনার সুযোগ রয়েছে। রাষ্ট্রপতির হাতে এই ধরনের ক্ষমতা থাকায় অতীতে বহু খুনের আসামিকেও ছেড়ে দিয়েছেন। খালেদা জিয়ার ক্ষেত্রে তা না করার সম্ভাবনা খুবই কম। প্রথমত তিনি একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী, তার বয়স হয়েছে এবং তিনি কোনও খুনের মামলার আসামিও না।

কিন্তু বিএনপি সেই সুযোগ না নিয়ে বারবার জল ঘোলা করছে এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে পিছিয়ে দিচ্ছে। তারা খালেদা জিয়ার আপসহীন নেত্রী ইমেজ ধরে রাখতে আগ্রহী। কিন্তু একজন ব্যক্তি যখন তাদের ভাষায় মৃত্যুশয্যায় তখন এই আপসহীন ইমেজ কি কাজে আসবে তার ব্যক্তিজীবনে! রাজনৈতিক পতনের কথা বললেও খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক পতন হয়ে গেছে বহু আগে। তাকে জেলে দেওয়ার পর, সাজা দেওয়ার পরও বিএনপি রাজনৈতিকভাবে তা ঠেকাতে পারেনি।

বিএনপি যে খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি করছে সেটা বিএনপি নেতাদের বক্তব্যেও ফুটে উঠছে। ২৬ নভেম্বর বিএনপি নেতা গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেছেন, ‘খালেদা জিয়ার চিকিৎসার দাবির চেয়ে সরকার পতনের দাবিটাই আমাদের কাছে মুখ্য হওয়া দরকার।’ তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আপনারা যেটা মনে ধারণ করেন, সেটা বাস্তবে রূপ দেওয়ার জন্য আপনাদের সার্বক্ষণিক প্রস্তুতি রাখতে হবে। দিনক্ষণ দেখে কখনও কোনও বিস্ফোরণ ঘটে না। জনগণের আন্দোলন রিমোট কন্ট্রোলে চলে না। জনগণের বিস্ফোরণের রিমোট কারও হাতে থাকে না। সেই কারণে বলছি, আপনারা প্রস্তুত থাকুন আর আমরাও প্রস্তুত থাকবো।’

গয়েশ্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দেশের শতকরা ৯৯ দশমিক ৯৯ ভাগ মানুষ খালেদা জিয়ার বিদেশে উন্নত চিকিৎসা হোক, তা চায়। শুধু একজন চান না। আমরা একটা আজব দেশে বাস করছি। যে দেশে চিকিৎসার জন্য আন্দোলন করতে হয়। অথচ চিকিৎসা মানুষের মৌলিক অধিকার।’

প্রধানমন্ত্রী তো খালেদা জিয়ার চিকিৎসা সুযোগ নিয়ে তার রাগ ক্ষোভ গোপন করেননি, প্রকাশ্যে বলেছেন এবং ক্ষোভের কারণও ব্যাখ্যা করেছেন। তিনি নিজের হাতে যে ক্ষমতা আছে তা ব্যয় করে খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিত করেছেন, তাও বলেছেন। তাহলে প্রধানমন্ত্রীকে টার্গেট করে গোলা ছুড়ে কী লাভ!

চিকিৎসা মৌলিক অধিকার অবশ্যই, কিন্তু একজন সাজাপ্রাপ্ত আসামি এবং সাধারণের অধিকার নিশ্চয়ই এক নয়। সীমিত। গয়েশ্বররা সেটা ভালো করেই জানেন। তারা বেগম জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতি না করে মুক্তির জন্য কেন ক্ষমা প্রার্থনা করছেন না! তখন তো বল সরকারের কোর্টে যেত এবং খালেদা জিয়ার চিকিৎসা নিয়ে রাজনীতিটা আরও ভালো করতে পারতো বিএনপি, যদি সরকার খালেদা জিয়ার আবেদনে সাড়া না দেয়।

লেখক: সাংবাদিক ও কলামিস্ট। ইরাক ও আফগান যুদ্ধ-সংবাদ সংগ্রহের জন্য খ্যাত।
anisalamgir@gmail.com


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর