বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ১১:১৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

রিমালে কৃষির ক্ষতি ১ হাজার কোটি টাকার বেশি

ভয়েস বাংলা প্রতিবেদক / ২২ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ৪ জুন, ২০২৪

কৃষি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে আমাদের এলাকায়। ধানের অনেক ক্ষতি হয়েছে। এখনও কিছু ধানক্ষেত পানির নিচে পড়ে আছে। পাকা ধান বেরিয়ে পড়েছে। নতুন করে যারা ‘আটাশ’ ধান রোপণ করেছিল, তারাও ক্ষতির মুখে পড়েছে, ধানের ফুল ঝড়ে পড়ে গেছে। সব মিলিয়ে কৃষির অনেক ক্ষতি হয়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের হিসাবে রিমালে কম ক্ষতিগ্রস্ত অঞ্চলগুলোর মধ্যে অন্যতম দিনাজপুর। এই অঞ্চলের ৫২ হেক্টর পরিমাণ কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। তবে এই চিত্রটি ঠিক উল্টো দেশের উপকূলীয় এলাকায়। দক্ষিণাঞ্চল ও দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল উপকূলীয় এলাকার জমির ক্ষতির কারণে লাখ-লাখ কৃষকের মাথায় হাত।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও অতিবৃষ্টির প্রভাবে সারা দেশের ৫০টি জেলার প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। গত ২৬ ও ২৭ মে ঘূর্ণিঝড় রিমাল ও অতিবৃষ্টিতে প্রায় ৬৩ হাজার হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতি ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকার বেশি।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের পরপর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইংয়ের প্রাথমিক তথ্য ছিল, মাঠে দণ্ডায়মান ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ১৪ লাখ ৩০ হাজার ৬৫ হেক্টর এবং আক্রান্ত ফসলি জমির পরিমাণ প্রায় ১ লাখ ৭১ হাজার ১০৯ হেক্টর (প্রাথমিক হিসাব)। ঝড়ের পর কয়েকদিন পর্যন্ত টানা পানিতে জমি ডুবে থাকায় এই হিসাব এসেছিল। তবে পানি নেমে পড়ার পর চূড়ান্ত হিসাবে ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭৮৩.৮২ হেক্টর। এতে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে এক হাজার ৫৯ কোটি টাকার বেশি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বিগত সময়ে আইলা ও আম্পানের চেয়েও রিমালে উপকূলীয় অঞ্চলের জেলাগুলোর বেশি ক্ষতি হয়েছে। দেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে ৫০টির কৃষিজমিতে রিমালের প্রভাব পড়েছে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর সূত্র জানায়, মোট ক্ষতিগ্রস্ত জমির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬২ হাজার ৭৮৩.৮২ হেক্টর। এতে ১০৫৯ কোটি টাকার আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৫ লাখ ৩৭ হাজার ২৩ জন।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে কোন অঞ্চলে কেমন ক্ষতি
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সরেজমিন উইং ১৪টি অঞ্চলে ভাগ করে রিমালের কৃষি খাতের ক্ষতির বিবরণ তুলে এনেছে। এরমধ্যে সাতটি অঞ্চলে বেশি ক্ষতি হয়েছে।
বরিশাল অঞ্চলের ছয়টি জেলার ১৮ হাজার ২০৯ হেক্টর ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫০৮ কোটি ৯৭ লাখ টাকার বেশি। এই অঞ্চলে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৮০ হাজার ৪৮১ জন।
খুলনা অঞ্চলের ৪টি জেলায় মোট ক্ষতিগ্রস্ত ফসলি জমির পরিমাণ ৩ হাজার ৭৩৩ হেক্টর, আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৭৯ কোটি ৭১ লাখের বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৭৩ হাজার ৯২২ জন।
ফরিদপুর অঞ্চলের ৫টি জেলায় ৩৩ হাজার ২৬ হেক্টর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, এতে আর্থিক ক্ষতি ৭১ কোটি টাকার ওপর। এই অঞ্চলের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ১ লাখ ৭৫ হাজার ৫৪০ জন।
সিলেট অঞ্চলের চার জেলার ২টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৪ হাজার ২২৬ হেক্টর, আর্থিক ক্ষতি ৬২ কোটি টাকার বেশি। আর ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৩২ হাজার ১৮৪ জন।
ঢাকা অঞ্চলের ৮টি জেলার মধ্যে ৬টির হিসাব দেখিয়েছে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর। ঢাকার ৬ জেলায় ৮৭৬ হেক্টরের বেশি পরিমাণ ফসলি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ১৩ হাজার ৫৯৫ জন কৃষকের ৪২ কোটি টাকার বেশি আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
রিমালের প্রভাবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ৫টি জেলায় ২ হাজার ১৮ হেক্টর কৃষি জমির ক্ষতি হয়েছে। এতে ক্ষতির পরিমাণ ৫৯ কোটি টাকার বেশি। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা ৪২ হাজার ৭৩৬ জন। এতে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার মধ্যে কুমিল্লা অঞ্চলের ৩টি জেলা রয়েছে। সরেজমিন উইংয়ের হিসাবে অঞ্চলের তিনটি জেলায় কৃষি জমির ক্ষতির পরিমাণ ২৩৪ হেক্টর এবং আর্থিক ক্ষতি ১১ কোটি টাকার বেশি।
তুলনামূলক কম ক্ষতি হয়েছে সাতটি অঞ্চলে। ময়মনসিংহ অঞ্চলের ৪টি জেলার ১টির হিসাব দিয়েছে সরেজমিন উইং। এতে ৩৯ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতির মুখে পড়েছে। ২ কোটি টাকার ওপর আর্থিক ক্ষতি হয়েছে ৪৯৯ জন কৃষকের।
যশোর অঞ্চলের ৬টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৪১ হেক্টর। ১২৭১ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় দুই কোটি টাকার।
দিনাজপুর অঞ্চলের ৩টি জেলার মধ্যে ১টির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৫২ হেক্টর। ৫২৬ জন কৃষকের আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা।
রংপুর অঞ্চলের ৫টি জেলার মধ্যে ২টির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৭০ হেক্টর। এই এলাকার ৬১২ জন কৃষকের সাড়ে ৪ কোটি টাকার বেশি ক্ষতি হয়েছে।
রাঙামাটি অঞ্চলের ৩টি জেলার ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৭৮ হেক্টর। তবে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের সংখ্যা এই অঞ্চলে অনেক বেশি। পার্বত্য এই অঞ্চলের ৫ হাজার ৫২৬ জন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের অন্তত ১০০ কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছে রিমাল ও তার পরবর্তী ঝড়-বৃষ্টিতে।
রাজশাহী অঞ্চলের চারটি জেলার মধ্যে ২টির ক্ষতিগ্রস্ত কৃষি জমির পরিমাণ ৮১ হেক্টর। এই অঞ্চলের ৩ হাজার ৯৮ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৫ কোটি টাকার বেশি।
বগুড়া অঞ্চলের ৪টি জেলায় ৯৮ হেক্টর কৃষি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ৩ হাজার ২৩৭ জন কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। রিমালের প্রভাবে এই অঞ্চলে ফসলি জমির আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৬ কোটি টাকা।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর