বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই ২০২৪, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার ও গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) প্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ বলেছেন, সংঘর্ষ-ভাঙচুরের ঘটনায় অভিযান চালিয়ে আমরা অনেককে গ্রেফতার করেছি। তারা আমাদের অনেক নাম দিয়েছে। যারা জড়িত সকলের নাম আছে। সময় হলে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেব। বুধবার (১৭ জুলাই) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ভিসি চত্বরে সাংবাদিকদের সামনে তিনি এসব কথা বলেন। হারুন বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা রেলের স্লিপার খুলতে পারে না, মেট্রো স্টেশন ভাঙচুর করতে পারে না, হাইওয়েও আটকাতে পারে না। বিশেষ একটি মহল তাদের ওপর ভর করে এমন কার্যক্রম চালাচ্ছে। জড়িত সবার নাম আছে, সময় হলে ব্যবস্থা: ডিবি হারুন কোটা আন্দোলনের কর্মসূচি বিএনপি-জামায়াত ঠিক করে দিচ্ছে: পররাষ্ট্রমন্ত্রী কোটা সংস্কার আন্দোলন সাধারণ ছাত্রদের হাতে নেই ঢাকায় বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশের ডাক হল ছাড়ছেন ঢাবি শিক্ষার্থীরা ঢাবি ক্যাম্পাসজুড়ে পুলিশ, হলগুলো ফাঁকা সারা দেশে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ ঘোষণা আন্দোলনকারীদের হত্যাকাণ্ড ও অনভিপ্রেত ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্ত করা হবে: প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায় আসা পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের ধৈর্য ধরার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

কঠোর নজরদারিতে প্রাথমিক শিক্ষকরা

ভয়েসবাংলা প্রতিবেদক / ১১৩ বার
আপডেট : মঙ্গলবার, ১২ এপ্রিল, ২০২২

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার, গুজব তৈরি ও দায়িত্ব পালনে অবহেলা ঠেকাতে কঠোর নজরদারির মধ্যে আনা হয়েছে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের। ইতোমধ্যে বেশ কিছু শিক্ষক সাময়িক বরখাস্ত হয়েছেন। অনেক শিক্ষককে শোকজ করা হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে সতর্কতা জারির পর জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কমিটি গঠন করা হয়েছে। কোনও গুজব, সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা এবং সরকারি নির্দেশনা যথাযথভাবে না মানলে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, রমজান মাসে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখার সরকারি সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিক্ষকরা পোস্ট দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে গুজব ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এসব বিষয়ে নজরদারি করা হচ্ছে।  মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।  কোনও কর্মকর্তা এক্ষেত্রে ব্যর্থতার পরিচয় দিলে তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেবে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর।  জেলা ও উপজেলা কমিটি শিক্ষকদের ফেসবুক এবং তাদের কর্মকাণ্ড মনিটরিং করবেন। মনিটরিংয়ের পর অবহেলা বা অভিযোগ উঠে এলে শিক্ষকদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালক আলমগীর মুহম্মদ মনসুরুল আলম বলেন, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রম এবং শিক্ষকদের মনিটরিং করবেন মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তারা। এ ক্ষেত্রে তারা যদি ব্যর্থ হন তাহলে শিক্ষকদের পাশাপাশি কর্মকর্তার বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ‘

অধিদফতর সূত্রে জানা গেছে, কোডিড-১৯ পরিস্থিতিতে দীর্ঘদিন প্রাথমিক বিদ্যালয় বন্ধ থাকার কারণে প্রাথমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের শিখন ঘাটতি পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ লক্ষ্যে প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোয় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান কার্যক্রম ২০ রমজান পর্যন্ত চালু রাখার সিদ্ধান্ত নেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতর গত ২৪ মার্চ এ সংক্রান্ত অফিস আদেশে জারি করে। এর পর রমজানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ক্লাস করানোর বিরোধিতা করে কিছু শিক্ষক ফেসবুকে পোস্ট দেন।  এই বিরোধিতা শেষ পর্যন্ত গুজব আকারে ছড়িয়ে যায় ফেসবুকে।

গত ২৯ মার্চ ফেসবুকে পোস্ট দেন দিনাজপুর সদর উপজেলার গৌরীপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. আব্দুল লতিফ। তিনি লেখেন, ‘হাজার স্যালুট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, অবশেষে প্রথম রোজা থেকেই দেশের সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিলেন দেশরত্ন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা’।

অন্যদিকে মানিকগঞ্জ সদরের বান্দুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শিল্পা রানী সরকার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেন, ‘অবশেষে প্রথম রোজা থেকেই সকল ধরনের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের ঘোষণা দিলেন মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ‘ তবে শিল্পা রানী সরকারের দাবি, অন্য একজন শিক্ষকের অনুরোধে এই পোস্ট দিয়েছেন তিনি। এই দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এছাড়া সিরাজগঞ্জ জেলাধীন উল্লাপাড়া উপজেলার বড়হর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আনোয়ারুল ইসলাম তোতা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সরকারি আদেশের বিরোধিতা করে পোস্ট দেন। গত ৩০ মার্চ বিভাগীয় উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ স্বাক্ষরিত অফিস আদেশে তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।

এদিকে সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়া উপজেলার কয়েকটি বিদ্যালয়ে ঠিকমতো বিদ্যালয়ে উপস্থিত না হওয়া ও অবহেলার অভিযোগ উঠে।  উপজেলা নির্বাহী অফিসার তদন্তে গিয়ে এসব দেখতে পাওয়ায় শিক্ষা কর্মকর্তাকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। আরও কয়েকজন শিক্ষককে এ বিষয়ে কারণ দর্শানোর নোটিস দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর