সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
আর্জেন্টিনার ঐতিহাসিক হ্যাটট্রিক শিরোপার হাতছানি কোপায় আর্জেন্টিনা-কলম্বিয়া ও ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ ইংল্যান্ড-স্পেন মুখোমুখি যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ গুপ্তহত্যার প্রচেষ্টা নেপালের নতুন প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি তিন হাজার বাংলাদেশি কর্মী নেবে ইইউভুক্ত চার দেশ : পররাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর জাতীয় রপ্তানি ট্রফি প্রদান দুর্নীতির বিরুদ্ধে অভিযান সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে না : প্রধানমন্ত্রী ট্রাম্পের ওপর হামলায় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর নিন্দা রাষ্ট্রপতির কাছে স্মারকলিপি জমা দিলেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ট্রাম্পের হামলাকারীর নাম পরিচয় জানালো এফবিআই

এখন কী বলবে বিসিবি?

ভয়েস বাংলা প্রতিবেদক / ১৩৩ বার
আপডেট : শুক্রবার, ৫ নভেম্বর, ২০২১

ঘটনাটা সবারই দেখা। টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার টুয়েলভসের প্রথম ম্যাচে স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে বাংলাদেশ হেরে যাওয়ার পরপরই পুরনো রূপে বিসিবি সভাপতি নাজমুল হাসান পাপন। বাজেভাবে পরাজয়ের কারণে খেলোয়াড়দের দায়িত্ববোধ এবং টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনায় মুখর হয়ে ওঠেন তিনি।  এমন উদাহরণ আরও অনেক আছে। দেশের ভেতরে হোক কিংবা বাইরে, সিরিজ কিংবা টুর্নামেন্ট– টাইগারদের পারফরম্যান্স খারাপ হলেই সংবাদমাধ্যমের সামনে ‘বিশ্লেষকের’ ভূমিকায় দেখা যায় বোর্ড প্রধানকে। এখানেই জন্ম নেয় প্রশ্ন। তাহলে কি সিরিজ বা টুর্নামেন্টের আগে তিনি নিজে ক্রিকেটার কিংবা টিম ম্যানেজমেন্টের পরিকল্পনার ব্যাপারে জেনে নেন না? সম্ভবত না। কারণ এর আগে বহুবার তিনি সংবাদকর্মীদের সামনে ক্রিকেটারদের নিয়ে তেতো কথা বলেছেন। তবে পরিকল্পনা জানা থাকুক আর না থাকুক, বোর্ড সভাপতির বহিঃপ্রকাশে বিসিবির পেশাদারিত্ব নিয়ে প্রশ্ন ওঠা স্বাভাবিক।
টুর্নামেন্টের মাঝখানে দাঁড়িয়ে এমন সমালোচনা নিতে পারেননি সিনিয়র ক্রিকেটাররা। তাই সাকিব-মাহমুদউল্লাহ-মুশফিকরা সংবাদ সম্মেলনে এসে পাল্টা জবাব দেন। সাকিব শক্ত হয়ে বসে বাঁকা উত্তর দেন। মাহমুদউল্লাহ জানান– তারা দেশের জন্য পেইন কিলার নিয়েও খেলেন। মুশফিক আয়নার মুখ দেখতে বলেন। এখানেই ক্রিকেটার, ক্রিকেট বোর্ড ও টিম ম্যানেজমেন্টের সমন্বয় ও বোঝাপড়া নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। কারও মধ্যে পেশাদারিত্বের ন্যূনতম মনোভাব ফুটে ওঠেনি। টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ‘বাজে’ দল। কিন্তু বিশ্বকাপ মঞ্চে গিয়ে বিধ্বংস হওয়ার পেছনে বোর্ড-ক্রিকেটারদের পাল্টাপাল্টি অবস্থান কিছুটা হলেও কি দায়ী নয়?
বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা নাজমুল আবেদিন ফাহিম বলেন, ‘সমালোচনা তো হবেই। কিন্তু এর একটা প্রক্রিয়া থাকতে হবে। বোর্ড সমালোচনা করলে ক্রিকেটারদের তো পাল্টা সমালোচনা করার সুযোগ নেই। মাঠে বল কিংবা ব্যাট হাতেই জবাব দিতে হবে তাদের।’
 ক্রিকেট এমন একটি খেলা যেখানে ক্রিকেটারদের সাফল্য অনেকাংশেই নির্ভর করে বোর্ডের দেওয়া সুযোগ-সুবিধার ওপর। দেশের ক্রীড়াঙ্গনের সবচেয়ে প্রতাপশালী ক্রীড়া সংস্থা বিসিবি। শুধু তা-ই নয়, বিশ্বের পঞ্চম ধনী বোর্ড। তাদের এফডিআর আছে ৫৪৫ কোটি টাকা। ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিসিবির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৩২ কোটি ৬৮ লাখ ৮৭ হাজার টাকা। এত অর্থ থাকার পরও বোর্ড বিশ্বমানের কোচ খুঁজে বের করতে পারছে না! কে না জানে, হাইপারফরম্যান্স ইউনিটের দায়িত্ব নিতে এসে জাতীয় দলের কোচ বনে গেছেন রাসেল ডমিঙ্গো। তার নেতৃত্বে বাংলাদেশের সাফল্য ঘরের মাঠেই সীমাবদ্ধ। তবুও আগামী দুই বছরের জন্য দক্ষিণ আফ্রিকান কোচের সঙ্গে চুক্তি নবায়ন করে ফেলেছে বাংলাদেশ ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা। ২০১৯ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপ ব্যর্থতায় স্টিভ রোডসকে বাদ দেওয়া হয়েছিল, কিন্তু তার চেয়েও বেশি ভরাডুবির পর টিকে যাচ্ছেন ডমিঙ্গো। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ– ক্রিকেটারদের ঠিকমতো অনুশীলন করাতে চান না তিনি। ইংল্যান্ড-অস্ট্রেলিয়ার মতো দল এবারের বিশ্বকাপে নিয়মিত অনুশীলন করলেও অদ্ভুত সব কারণ দেখিয়ে অনুশীলন বাতিল করেছেন ডমিঙ্গো। তবুও তার ওপরেই আস্থা রাখছে বিসিবি। কিছুদিন আগে সাবেক অধিনায়ক মাশরাফি বিন মুর্তজা বাংলাদেশ দলের কোচিং স্টাফদের নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনা করেন। ‘ক্যাপ্টেন ফ্যান্টাস্টিক’ মনে করেন, ডমিঙ্গোদের কাজটা কম পারিশ্রমিকে স্থানীয় কোচরাই করতে পারেন!  তবে সাবেক ক্রিকেটার আফতাব আহমেদ মনে করেন, বাংলাদেশ দলে প্রভাব বিস্তার করার মতো ‘কড়া হেডমাস্টার’ প্রয়োজন।
চন্ডিকা হাথুরুসিংহে যেভাবে বাংলাদেশের ক্রিকেট নিয়ে চর্চা করতেন তেমন কাউকে পেলে উপকার হবে বলে মনে করেন তিনি। তার মতে, ‘বাংলাদেশের কোচদের মধ্যে এখন পর্যন্ত হাথুরুসিংহেকে আমার পছন্দ হয়েছে। কোচের একটা লক্ষ্য থাকতে হবে। তাকে পরিকল্পনা সাজানোর পাশাপাশি কঠোরও হতে হবে। হাথুরুকে কাছ থেকে দেখিনি, কিন্তু বাইরে থেকে মনে হয়েছে এরকম কোচই বাংলাদেশের জন্য দরকার।’ কোচের দোষ দিয়ে হয়তো দায় এড়ানো যাবে। কিন্তু সমস্যার সমাধান হবে না। টি-টোয়েন্টিতে টাইগারদের সাফল্য না পাওয়ার মূল কারণ ঘরোয়া ক্রিকেটের উইকেট। যে উইকেটে খেলতে খেলতে তারা বেড়ে ওঠেন সেটি মানহীন হলে ভালো মানের ব্যাটার হওয়া সম্ভব নয়। ভালো মানের উইকেট তৈরি না করার ব্যর্থতার দায়ভার নিতে হবে বিসিবিকেই। কিন্তু বোর্ডের কর্তারা সেটি বুঝলে হয়!
 
বিশ্বকাপের আগে অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে স্লো ও টার্নিং উইকেটে বাংলাদেশের খেলা নিয়ে ব্যাপক সমালোচনা হয়েছিল। কিন্তু তাতে বোর্ড থেকে শুরু করে ক্রিকেট সংশ্লিষ্ট কেউই পাত্তা দেয়নি। তারা যেন অল্পতেই খুশি। ভবিষ্যতের কথা না ভেবে ‘জয়’ নামের ঠুনকো আত্মবিশ্বাস পাওয়াতেই তাদের যত উচ্ছ্বাস। নিজেদের মাঠে অস্ট্রেলিয়াকে চেপে ধরে ৪-১ ব্যবধানে সিরিজ জেতা বাংলাদেশ সংযুক্ত আরব আমিরাতে গিয়ে স্পোর্টিং উইকেটে ৭৩ রানে অলআউট। অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডকে সিরিজ হারানোর পর বিশ্বসেরা অলরাউন্ডার সাকিব তো এক অনুষ্ঠানে বলেই ফেলেন, ‘এমন উইকেট ব্যাটাররা নিয়মিত খেললে তাদের ক্যারিয়ার শেষ হয়ে যাবে।’ বাস্তব অর্থে সেটাই হয়েছে। নিজেদের কন্ডিশনে তারা ব্যর্থ হলেও টিম ম্যানেজমেন্ট আশায় ছিলেন ভালো উইকেট পেলে জ্বলে উঠবে সবাই। কিন্তু টানা রান খরায় থাকা বাংলাদেশের ব্যাটররা নাস্তানাবুদ হয়েছে। যার খেসারত দিতে হলো বিশ্বকাপে সব ম্যাচ হেরে। এখন কী বলবে বিসিবি? ঘরের মাঠে স্বীকার না করলেও বিশ্বকাপে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার পর নির্বাচক হাবিবুল বাশার স্পোর্টিং উইকেটে খেলার প্রয়োজনীয়তার কথা মুখ ফুটে বলেছেন। এক ভিডিও বার্তায় তিনি বলেন, ‘অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ড সিরিজের উইকেট নিয়ে অনেক কথা হয়েছে। জয় অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের আসলে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য ঘরোয়া টুর্নামেন্টে ব্যাটিং উইকেট তৈরি করা দরকার।’ পাশাপাশি শক্তিশালী ক্রিকেট কাঠামো না থাকায় মূলত টি-টোয়েন্টির জন্য যথাযথভাবে তৈরি হতে পারছেন না ব্যাটাররা। ওয়ানডে ফরম্যাটে ঢাকা লিগ হলেও কুড়ি ওভারের আলাদা কোনও লিগ কিংবা টুর্নামেন্টে নেই। বিরতি দিয়ে বিপিএল হলেও সেখানে সব ক্রিকেটার সুযোগ পায় না। কিন্তু সংক্ষিপ্ত সংস্করণে ভালো করতে আলাদা একটি টুর্নামেন্ট সময়ের দাবি।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচে উইকেটের দিকে নজর দেওয়ার পাশাপাশি নির্বাচকদের মানসিকতার পরিবর্তন আনা জরুরি। টি-টোয়েন্টির দল নির্বাচনের ক্ষেত্রে অবশ্যই প্রাধান্য দেওয়া উচিত স্ট্রাইক রেট। কিন্তু বাংলাদেশ দলের নির্বাচকরা আগে দেখেন রান। ক্রিকেটারদের মাথায় বিষয়টি থাকে বলেই তারা যেভাবেই হোক রান করতে চান। রান করার প্রতিযোগিতায় গিয়ে স্ট্রাইক রেটে পিছিয়ে যাচ্ছেন ব্যাটাররা। বিশেষ করে তারা যখন অফ ফর্মে থাকেন তখন তাদের জন্য ভয়ডরহীন ক্রিকেট খেলা কঠিন হয়ে যায়। তারা তখন স্ট্রাইক রেটের চিন্তা বাদ দিয়ে রান করতে উন্মুখ থাকেন। এ কারণে পাওয়ার প্লেতে রানের চাকা ঘোরে না খুব একটা। এবারের বিশ্বকাপেও তা স্পষ্ট হয়েছে। সাবেক ক্রিকেটার নিয়ামুর রশিদ রাহুল তিন ফরম্যাটের জন্য আলাদা আলাদা দল গঠনের প্রয়োজনীয়তা দেখছেন, ‘টি-টোয়েন্টিতে খেলোয়াড় তুলে আনতে হলে তিন ফরম্যাটে তিনটি ভিন্ন ঘরোয়া লিগ খুব দরকার। তাতে করে বোঝা যাবে কে কোন ফরম্যাটে ভালো। তাতে দলগঠনেও সুবিধা হবে।’


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো সংবাদ

এক ক্লিকে বিভাগের খবর